নিজস্ব আয়ে বছরে ৩ পদ্মা সেতু করার উপায় দেখাল অর্থনীতি সমিতি

প্রকাশিত: ৮:৫৩ অপরাহ্ণ, মে ২৫, ২০১৯
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড.আবুল বারকাত। ছবি: টাইমস বিডি


আসন্ন ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ১২ লাখ ৪০ হাজার ৯০ কোটি টাকার বিকল্প বাজেট প্রস্তাব করেছে অর্থনীতি সমিতি। যা অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাব করতে যাওয়া ৫ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার বাজেটের দ্বিগুণ।

 

বিকল্প বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ১০ লাখ ২ হাজার ৫১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রত্যক্ষ কর ধরা হয়েছে ৬৯ শতাংশ এবং পরোক্ষ কর হবে ৩১ শতাংশ। অর্থাৎ মোট বাজেটের ৮১ শতাংশই আসবে রাজস্ব আয় থেকে।

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে বাজেটটি প্রস্তাব করেন সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড.আবুল বারকাত।

এ সময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ড.জামালউদ্দিন আহমেদসহ অর্থনীতি সমতির সদস্য, পোশাক শ্রমিক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

প্রস্তাবিত বিকল্প বাজেটে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে অবকাঠামো সুবিধাসহ ব্যবসার ব্যয় কমিয়ে আনা এবং ব্যবসা প্রক্রিয়াকরণ সহজ করার কথা বলা হয়েছে।

তাছাড়া ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানো, ব্যাংক খাতের সংস্কার ও আর্থিক খাতে ন্যয়পাল নিয়োগ, কর্মসংস্থান বাড়ানো, মানব সম্পদ উন্নয়ন, রফতানি বহুমুখীকরণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উন্নয়ন, অর্থপাচার রোধসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানানো হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে আবুল বারকাত বলেন,আমি অর্থমন্ত্রী হলে কোনো বাধা না আসলে আগামী অর্থবছরের জন্য এই বাজেটই দিতাম। কারণ আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা।

আগামী বছর বঙ্গন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর ফলে প্রস্তাবিত বাজেটের ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে বলে উল্লেখ করেন আবুল বারকাত।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের উৎস হিসেবে ২০টি নতুন উৎস নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে অর্থপাচার রোধ, কালো টাকা উদ্ধার এবং সম্পদ কর- এই তিন উৎস থেকেই অতিরিক্ত ৯৫ হাজার কোটি টাকা আয় আদায় করা যাবে। এ টাকা দিয়ে প্রতিবছর তিনটি পদ্মা সেতু করা সম্ভব। ফলে প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নে কোনো বৈদেশিক ঋণের প্রয়োজন হবে না।

তিনি জানান, প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি থাকবে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। এটি কোনো বড় ঘাটতি নয়।